রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন কিছুতেই কমছে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেরের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করলেও পাম্প মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, তেলের সরবরাহ এখন অত্যন্ত অনিয়মিত এবং চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।
বুধবার রাজধানীর বাংলাবাজার, রমনা, পরিবাগ, মগবাজার ও মহাখালী এলাকায় গিয়ে দেখা যায় তেলের পাম্পগুলোর সামনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। কোনো কোনো এলাকায় লাইনের দৈর্ঘ্য এক পাম্প থেকে অন্য পাম্প পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। অনেক চালক ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। রাস্তার ওপর যানবাহনের এই দীর্ঘ সারির কারণে শহরজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেল আসার খবর পেলেই চালকরা হুড়োহুড়ি করে পাম্পে চলে আসেন। তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় এবং বিপিসির আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবের মিল না থাকায় চালক ও পাম্পমালিক-উভয় পক্ষই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিপিসির বিতরণ ও বিপণন বিভাগের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, ডিজেল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ আগের মতোই আছে। তবে বর্তমান মজুতের পরিমাণ জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, মজুতের সঠিক তথ্য কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই দিতে পারবেন। তিনি শুধুমাত্র সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেন।
বিপিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ২০ হাজার টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ১৪ হাজার টন এবং পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা প্রতিটির ক্ষেত্রে এক হাজার ৩০০ টন। বর্তমানে দৈনিক ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ এক হাজার ৩০০ টনের আশেপাশেই আছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা একেবারেই উল্টো। কাগজ-কলমের তথ্যের সঙ্গে খুচরা বাজারের তেলের প্রাপ্যতায় বড় ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে।
নীলক্ষেতের পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. আসলাম জানান, জ্বালানি সরবরাহ এখন পুরোপুরি ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। তারা কখনো দুই দিন, কখনো তিন দিন এমনকি পাঁচ দিন পর পর তেল পাচ্ছেন। তার পাম্পে প্রতিদিন ১৩ হাজার লিটারের বেশি তেলের প্রয়োজন হয়। অথচ যেটুকু তেল পাচ্ছেন, তা অর্ধেক বেলাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ না থাকায় পাম্পের একটি অংশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হচ্ছে। গ্রাহকদের ধারণা, পাম্প মালিকরা ইচ্ছা করে তেল ধরে রাখছেন।
একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন বাংলাবাজারের সামদানী পেট্রোল পাম্পের মালিক কাজী সামদানী ফিরোজ। আগে তার পাম্পে প্রতিদিন ১২ হাজার লিটার তেল লাগত। এখন তিনি সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার লিটার। কোনোদিন ৯ হাজার লিটার পেলেও পরদিন হয়তো ৫ হাজার লিটার পাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় তেল এতই কম যে মজুত রাখার কোনো উপায় নেই।
তেলের এই সংকটের কারণে অনেক পাম্প এখন তেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দিয়েছে। এখন মোটরসাইকেলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং গাড়িতে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


