ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে নিজ সাবেক কর্মস্থলেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক। এ সময় তার স্ত্রী মাছুমা বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদকের একজন কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার সকালে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের তলবে স্ত্রীসহ হাজির হন জহুরুল হক। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞার নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল এই জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্ত্রী মাছুমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে দুদক কার্যালয় ত্যাগ করেন জহুরুল হক। তবে এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জহুরুল হকের বিরুদ্ধে রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম, বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১২ সালে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি চাকরিজীবী ক্যাটাগরিতে জহুরুল হকের স্ত্রী মাছুমা বেগম একটি প্লট বরাদ্দ পান। পরবর্তীতে ওই প্লটের তথ্য গোপন করে বিধি লঙ্ঘন করে জহুরুল হক আরও একটি প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ওই দুটি প্লট ফেরত দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেদের নামে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন তারা।
কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ২০১৪ সালে দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে স্ত্রীর প্লটের তথ্য গোপনের বিষয়ে জানতে চাইলে জহুরুল হক দাবি করেন, বিষয়টি ‘খেয়াল না থাকায়’ উল্লেখ করা হয়নি।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর জহুরুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের এক পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে গত ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রাজস্ব ভাগ কমিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে জহুরুল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।
এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর জহুরুল হকের পাসপোর্ট বাতিল এবং তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুজ্জামানের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক জহুরুল হক সর্বশেষ দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।


