শুক্রবারের ভূমিকম্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনব্যবস্থার ভঙ্গুরতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’।
সংগঠনটি বলছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের ‘চরম উদাসীনতা’ এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
শনিবার সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলগুলোর অবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হলই বহু পুরোনো ও জরাজীর্ণ। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করার মতো সক্ষমতা এসব ভবনের নেই। বহুবার এই বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করে সাদা দল।
আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা–ব্যবস্থা নিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিকিৎসা–সংক্রান্ত সব ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়কেই বহন করতে হবে।
সাদা দলের দাবি, অবিলম্বে সব পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হল ভেঙে আধুনিক, ভূমিকম্প–সহনশীল নতুন হল নির্মাণের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নতুন হল নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হলে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের ভেতরে অস্থায়ী টিনশেড বা প্রিকাস্ট ভবনে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাবি সাদা দল বলেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কোনো ‘অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন তারা। সংগঠনটি প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।


