রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত পুলিশের চার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মো. মাসুদ আলমের মতে, শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের ‘একটু’ বাড়াবাড়ির কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় ডিউটিতে থাকা পুলিশের চার সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ।
এসময় দুই সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
ডিএমপির রমনা জোনের এ অভিযানের বিষয়ে সেসব ডিসি মাসুদ বলেছিলেন, ‘এটা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান। রাত ৮টা-৯ টার দিকে তো অন্য কেউ থাকে না, একেবারে অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে এরা বসে আছে। এটা তো রেগুলারই চলে, আজকে একটু বড় আকারে করা হয়েছে।’
‘অভিযান চলাকালে ৮-১০ জনের একটি দল অন্যদের অজান্তে পাশে সরে যায়, বাকিরা বাম দিকে চলে যান। ওই দলটি কিছু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মুখোমুখি হয়, যারা গাঁজা সেবন করছিল, তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে ধস্তাধস্তি শুরু করে।’
ডিসি মাসুদ বলেন, ‘যারা গাঁজা খায় ওদের কাছে ছোট চাকু বা কাঁচি টাইপের থাকে যেটা দিয়ে গাঁজা তৈরি বা প্রসেস করে। সেরকম কিছু দিয়েই একজন কনস্টেবলের চোখের ওপরে আঘাত করেছে। সেখানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়।’
সাংবাদিকের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অধস্তনরা দাবি করে, তারা বুঝতে পারেনি যে তিনি সাংবাদিক। কারণ গলায় কোনো প্রেস পরিচয়পত্র ছিল না।’
যদিও সাংবাদিকের অভিযোগ তাদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালিয়েছে পুলিশ।
আজত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কথা বলে সমাধানও হয়েছে। ওদেরকে বলেছি আমরা থাকলে তো কোনোভাবেই এমন হতো না।’
পরে প্রক্টর লোক পাঠানোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের মঙ্গলবার মোবাইল কোর্টে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।


