মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম চৌমুহনী এলাকায় একটি খালের ওপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে তাদের। প্রায়ই সাঁকো থেকে পড়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের শশিকর চৌমুহনী এলাকায় খালের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য আগে একটি কাঠের সেতু ছিল। তবে সেটি খুব বেশি চলাচল উপযোগী না হলেও ছোট ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করত।
ঝড় ও খালের প্রবল স্রোতে সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। পরে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে সেই সাঁকোই একমাত্র চলাচলের পথ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে খালের স্রোত বেড়ে গেলে সাঁকোটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় পথচারীদের।
দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার জানান, শশিকর চৌমুহনী এলাকায় উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে লোহা ও কাঠের সমন্বয়ে একটি সেতু ছিল। কয়েক বছর আগে ঝড় ও প্রবল স্রোতে সেটি ভেঙে যায়। এই পথ দিয়ে মাদারীপুরের মোস্তফাপুর থেকে গোপালগঞ্জের পয়সারহাট পর্যন্ত হাজারো মানুষ চলাচল করেন। অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা এখন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।
তিনি বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণের জন্য বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হলে জনদুর্ভোগ কমবে।’
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘শশিকর চৌমুহনীর সেতুটি অনেক আগেই ভেঙে গেছে। এতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত সেতু নির্মাণের জন্য জরুরি বার্তার মাধ্যমে এমপির ডিও লেটারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী অর্থবছরের শুরুতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।’


