লেবাননে মার্কিন-ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিক।
রোববার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহত সেনার নাম মোশে ইৎসহাক হাকোহেন ক্যাৎজ (২২)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হ্যাভেনের বাসিন্দা ছিলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
সূত্র: এবিসি নিউজ
লেবাননে সাংবাদিক হত্যায় ইরানের নিন্দা
লেবাননে তিন সাংবাদিককে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি এই হামলাকে ইসরায়েলের ‘টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন’ বা ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নিজের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড শুধু আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমের জন্য বড় ক্ষতি নয়, বরং এটি বিশ্ব বিবেকের জন্যও গুরুতর সতর্কবার্তা।’
তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্টভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার উদ্দেশ্য শুধু ব্যক্তিকে হত্যা নয়, বরং সত্যকে ভয় দেখানো এবং সত্য তুলে ধরার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা।’
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অতীতেও সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে দাবি করে আরাগচি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টায় পাকিস্তান-মিশরের বৈঠক

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টায় বৈঠক করেছেন পাকিস্তান ও মিশরের শীর্ষ কূটনীতিকরা। রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাতি।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করাই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে মূলত ‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, ইরানপন্থী লেবানন ও ইয়েমেনের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধাবস্থা” নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা মোকাবিলায় ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ তৈরির বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই বৈঠক আয়োজিত হয়েছে।
এর আগে, শনিবার কাতারে অবস্থানকালে আবদেলাতি জানান, তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করা।
কেবল পাকিস্তান ও মিশরই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরাতে মধ্যস্থতার চেষ্টায় শনিবার রাতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া, সৌদি আরবের শীর্ষ কূটনীতিকেরও রোববার ইসলামাবাদ সফরের কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের আল্টিমেটাম, মার্কিন-ইসরায়েলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি

ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার দায় স্বীকার করে নিন্দা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বুধবার পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে তেহরান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আঘাত থেকে বাঁচাতে চায়, তবে সোমবার, ৩০ মার্চ, দুপুর ১২টার মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বোমা হামলার নিন্দা জানাতে হবে।’
সেই সঙ্গে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলি বাহিনীকে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভূমিকা দাবি করে আইআরজিসি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর এক মাসে এবারই প্রথম দেশ দুটির মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলার হুমকি দিল ইরান।
সূত্র: এপি
ইরানের হরমোজগান মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় নিহত ৫

ইরানের হরমোজগান প্রদেশের বান্দারে খামিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন চারজন।
ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, হামলায় দুটি পানিবাহী যান এবং একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে হামলায় হতাহতদের পরিচয় বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি তেহরান।
গাজায় পুলিশ চেকপোস্টে ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ নিহত ৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ফের গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এক শিশুসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের মধ্যেও গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার দক্ষিণ খান ইউনিসে দুটি পুলিশ চেকপোস্টে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য এবং শিশুসহ তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি। হামলায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।
অবশ্য হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৯২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজার ৮৯৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, যোগ দিয়েছেন ৮০ লাখ মানুষ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফার মতো ‘নো কিংস’ (কেউ রাজা নয়) বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের তিন হাজারের বেশি এলাকায় ৮০ লাখের বেশি মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট সমর্থিত ফাইভ-জিরো-ফাইভ-জিরো-ওয়ান মুভমেন্টের দাবি, ‘আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে একদিনের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ’।
এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, এসব বিক্ষোভের মধ্যে প্রায় ৬০০টিই রিপাবলিকান সমর্থক অধ্যুষিত গ্রামীণ এলাকায় আয়োজন করা হয়, যা ট্রাম্পের প্রতি জনবিরোধিতার ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয় মিনেসোটার টুইন সিটিজে। সেখানে প্রায় ২ লাখ মানুষ নো কিংস বিক্ষোভে অংশ নেন।
নিউইয়র্কে বিক্ষোভে যোগ দেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এছাড়া সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, শিকাগো ও ডালাসসহ বড় শহরগুলোতেও ব্যাপক সমাবেশ হয়। ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও সমানভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
কেবল যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন দিয়ে সংহতি সমাবেশ করেছে কানাডা, মেক্সিকো, জার্মানি, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ। এতে বোঝা যায়, এই প্রতিবাদ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংকটের প্রতিফলন।


বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান তুলে ধরেন। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে যুদ্ধ উস্কে দেওয়ার পেছনে ট্রাম্পের একচ্ছত্র ভূমিকা রয়েছে। তিনি ক্ষমতার নেশায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শ্রেষ্ঠ’ না বানিয়ে বরং বিশ্বের কাছে আগ্রাসী হিসেবে প্রমাণ করে চলেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের মুখে মুখে ‘নো কিংস’ স্লোগানের পাশাপাশি ‘নো আইসিই, নো ওয়ারস’ স্লোগানও ব্যাপকভাবে শোনা যায়। ছোট ছোট শিশুদের হাতে দেখা যায় যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড।
এতে অভিবাসনবিরোধী অভিযান, গণগ্রেপ্তার ও বিদেশে সামরিক আগ্রাসনে ট্রাম্প প্রসাসশনের ভূমিকার বিরোধিতা স্পষ্ট প্রকাশ পায়।
বড় শহরের সমাবেশগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজনীতিবিদ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মিনিয়াপোলিসে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, গভর্নর টিম ওয়ালজ ও অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসনসহ অনেকে।
ভার্জিনিয়ার নরফোকে প্রায় ৫০০ মানুষ সমাবেশ করেন। সেখানে সাধারণ ধর্মঘটের দাবিও ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কেবল ভোট দিয়ে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিলেও সেখানে পুলিশের কড়া উপস্থিতি দেখা যায়। কিছু এলাকায় বিক্ষুব্ধদের গ্রেপ্তারও করা হয় এবং ‘ম্যাস অ্যারেস্ট’ বা গণগ্রেপ্তারের সতর্কতা দেওয়া হয়। সাংবাদিকদেরও সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সমালোচকদের মতে, তারা এই জনবিক্ষোভকে ডেমোক্র্যাটরা দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করলেও তা এরইমধ্যে বিশ্বের সাধারণ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
জার্মানির নুরেমবার্গে ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ ডেভিড নর্থকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সমালোচনা করতে চাওয়ায় তাকে থামানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের একটি বড় ইস্যু হয়ে ওঠেছে বলে দাবি করেন অনেকে। একমাস ধরে চলা যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছেন অতিরিক্ত আরও তিন হাজার সেনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প যদি যুদ্ধের পরিণতি বিবেচনা না করে ইরানে স্থল অভিযান শুরু করেন, তা গোটা বিশ্বের জন্যই ভয়াবহ হবে। এমনকি পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে তেলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ কেবল ট্রাম্পবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, এটি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বিস্তৃত জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।


