কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের প্রস্তুতিকালে তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫।
রবিবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব জানায়, সম্প্রতি সাগরপথে মানবপাচারকারী চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সুযোগ বুঝে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাখা তিনজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের র্যাব হেফাজতে নিয়ে টেকনাফ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে জিডি মূলে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর হয়। তাদের পরিবার ও নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, ‘মানবপাচারকারীরা এখনো সুযোগ খুঁজে সাগরপথে রোহিঙ্গাদের বিদেশ পাঠানোর অপচেষ্টায় রয়েছেন। অবৈধভাবে সাগরপথে বিদেশ পাঠাতে উস্কানি, প্রলোভন ও প্রতারণা করে মানবপাচার করছেন তারা। এজন্য প্রতিনিয়ত আমরা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করছি।’
‘এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ রোধে র্যাব-১৫ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে রয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
এর আগে, গত ৪ নভেম্বর টেকনাফ বাহারছড়া জুম্মাপাড়া সংলগ্ন গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা নারী ও শিশুসহ ২৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী। এ সময় দুইজন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়।
টেকনাফ থানার তথ্যমতে, গত দুই মাসের ব্যবধানে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকা থেকে র্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বিজিবি মোট ৪৮১ জনকে উদ্ধার করেছে। আটক করা হয়েছে পাচারকারী চক্রের ৫৩ সদস্যকে।


