কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন ‘পাহাড়ি বন্দিশালা’ থেকে মানব পাচারের জন্য জিম্মি করে রাখা ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে, রেজাউল করিম ও আয়াতুল তনজিদ নামে দুইজন পালিয়ে গেছেন।
সোমবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় বিজিবি। এর আগে, রোববার টেকনাফের বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২ ও র্যাব-১৫ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান ও র্যাব-১৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান এ যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করেন। এ বিষয়ে তারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার আব্দুল্লাহ (২১), টেকনাফের রাজাছড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম (২০) ও একই এলাকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২০)।
বিজিবি জানিয়েছে, শনিবার তারা গোপনে খবর পায়, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার গহীন পাহাড়ে একটি পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আটকে রেখেছে। খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালায় বিজিবি-২।

অভিযানে শুরুতে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে একজন পাচারকারীকে আটক এবং চারজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও র্যাবের কয়েকটি চৌকস আভিযানিক দল বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া এলাকা থেকে রাজাছড়া পাহাড় পর্যন্ত চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানের প্রথমধাপে ১৪ জন এবং পার্শ্ববর্তী আরেকটি পাহাড় থেকে ১৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, রাজাছড়া এলাকার অন্য একটি পাহাড়ে অভিযান চালালে পাচারকারীরা যৌথবাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রথমে দুই রাউন্ড, পরে এক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
প্রায় ১২ ঘন্টা বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের অভিযানে দুইজন পাচারকারীকে আটক এবং একটি ওয়ান শুটারগান ও একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি দেশীয় রামদা ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনটি অস্ত্রের চেম্বার থেকে তিন রাউন্ড গুলিও জব্দ করা হয়।


