রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুইজনকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। অপর আসামি হলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, রোববার মামলাটিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল কিনা এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আসামিদের আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ২৯ মার্চ প্রতিবেদনের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত।
দুদকের আবেদন নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন একই আদালত। অবৈধ সুবিধা নিয়ে গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে কমিশনের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনও টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করেন। মামলার পর গত বছরের জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান মামলার তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক নো অর্ডার আদেশ পায়।
এরপরে তদন্ত শেষে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। এর আগে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিন মামলায় দুই বছর করে ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে টিউলিপ সিদ্দিকের।


