গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে আগুনে নেভাতে গিয়ে দগ্ধ ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদার মৃত্যুর ১২ দিন পর সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তার স্ত্রী।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
নুরুল হুদার বাবা আবুল মুনসুর বলেন, ‘আমি ছেলে হারাইলাম, আর ছেলের সন্তান জন্ম নিল এতিম হয়ে। নিজের সন্তানকেও সে দেখে যেতে পারল না। আল্লাহ সব পরিকল্পনাকারী, তিনিই আমার নাতিকে দেখে রাখবেন।’
মমেক হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘আসমা খাতুন নামে ওই প্রসূতিকে রোববার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। মা ও নবজাতক দুজনই ভালো আছে। দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকসহ আমরা নবজাতক ও মায়ের খোঁজখবর নিয়েছি।’
গত ২২ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর সাহারা মার্কেটে কেমিক্যাল গুদামে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হন নুরুল হুদা। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দুইদিন পর মারা যান তিনি।
ওই ঘটনায় আরও দুই ফায়ার ফাইটার ও এক দোকান কর্মচারী দগ্ধ হয়ে মারা যান।
নুরুল হুদার জন্ম ১৯৮৭ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায়। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন তিনি। সদ্যজাত সন্তান ছাড়াও তার ১০ বছরের একটি মেয়ে ও তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।


