রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আট মাসের সংলাপ শেষে শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা।
এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, এনডিএম, গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি, গণঅধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন, গণফোরাম, জাকের পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট, আমজনতার দলসহ মোট ২৫টি দল সনদে স্বাক্ষর করে কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার জানায়।

বিকেল পাঁচটার পর শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসে দলিলটি অনুমোদন করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতির জোনায়েদ সাকি, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা এতে স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষর শেষে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা কখনো কল্পনা করা হয়নি, তা আজ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এই সনদ একদিন বিশ্বে উদাহরণ হিসেবে দেখা হবে।’

সংলাপে অংশ নেওয়া ৩০ দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদ সনদে স্বাক্ষর করেনি। তাদের অভিযোগ, কমিশনের আলোচনায় শ্রম, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
ঐকমত্যে পৌঁছানো দলগুলোর মতে, এই সনদ বাস্তবায়ন হলে প্রশাসন, নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতিবিরোধী কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো সনদের ধারাগুলো বাস্তবে কার্যকর করা।


