জুলাই অভ্যুত্থানে ‘গুলি চালানোর নির্দেশ দেন হাসিনা’ : বিবিসির অনুসন্ধান

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘গুলি চালানোর নির্দেশ দেন হাসিনা’ : বিবিসির অনুসন্ধান
জুলাই অভ্যুত্থান দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় যৌথ বাহিনী। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশে ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভ দমন অভিযানে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের’ নির্দেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে ‘বিবিসি আই’-এর যাচাই করা একটি টেলিফোন অডিও কলে।

মার্চে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, গুলি করা হবে।’

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অনুপস্থিত অবস্থায় শেখ হাসিনার বিচার চলছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ এই অডিওকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ তদন্তকারীদের মতে, গত বছর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন। হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তিনি ও তার দল সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় যৌথ বাহিনী। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শেখ হাসিনার ‘গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এতে ‘অবৈধ উদ্দেশ্য’ বা ‘অতিরিক্ত বল প্রয়োগের নির্দেশ’ স্পষ্ট নয়।

বিবিসির তদন্ত অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে হাসিনার ১৮ জুলাইয়ের ফোনালাপই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ—যা সরাসরি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গুলি করার অনুমোদনের ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন

বিক্ষোভটি শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য রাখা চাকরির কোটার বিরোধিতায়। ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় গণআন্দোলনে, যা শেষপর্যন্ত হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়।

৫ আগস্ট ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন—যেদিন বিক্ষোভকারীরা গণভবন ঘিরে ফেললে হাসিনা হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেন।

‘বিদ্রোহ আজ, বিদ্রোহ চারিদিকে’…জুলাই অভ্যুত্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অকুতোভয় ছাত্র-জনতা। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

বিবিসি ও পুলিশ সূত্র বলছে, ফোনালাপটি হয় গণভবন থেকেই, যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন। কলের পরপরই ঢাকায় সেনাবাহিনীর রাইফেল মোতায়েনের প্রমাণ মিলেছে।

বিবিসি জানায়, বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) হাসিনার একাধিক ফোন কল রেকর্ড করে।

ফাঁস হওয়া অডিওটি বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) হাসিনার কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে এবং ব্রিটিশ অডিও ফরেনসিক সংস্থা ‘এয়ারশট’  নিশ্চিত করেছে যে, এটি (হাসিনার ওই অডিও ক্লিপ) সম্পাদিত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়।

তবে, আওয়ামী লীগ বলছে, তারা এই রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারছে না।

এমন আবহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি চলছে, যেখানে এই অডিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad