সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ হওয়ায় তার পদোন্নতির পক্ষে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি একথা বলেন।
তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো। আগামী সোমবার পরবর্তী জেরার দিন ঠিক করা হয়েছে।
জেরায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান পদে থাকার সময় জিয়াউল আহসান লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি পান। প্রমোশন বোর্ডের অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে পদোন্নতির পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন।’
‘আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি পদোন্নতির পক্ষে নই। তুমি পদোন্নতির সভায় বিষয়টি এভাবে উপস্থাপন করবে এবং তিনি সভায় এভাবেই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। তবু বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য তাকে ভালো অফিসার হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেন।’
সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সাধারণত স্টাফ কলেজ সম্পন্ন করা ছাড়া কাউকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। তিনি স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনো অর্জন করেননি। এমনকি স্টাফ কলেজও করেননি। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ড করেননি। এজন্য তিনি কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না।’
ইকবাল করিম ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, জেনারেল মোমেন পদোন্নতি সভায় জিয়ার ব্যাপারে উপস্থাপন করার কিছুদিন পর তাকে (মোমেন) সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে প্রেষণে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয়। সেনাবাহিনীতে এ ধরনের পোস্টিংকে ডাম্পিং পোস্টিং বলা হয়।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের মতে, ২০০৯–২০১৬ সময়কালে জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং এডিজি (অপস্) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে অসংখ্য বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, অগণিত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সরাসরি নির্দেশ, অনুমোদনক্রমে, জ্ঞাতসারে তার বিশ্বস্ত র্যাব সদস্যরা সংঘটন করতো।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর অবস্থায় র্যাবে পোস্টিং পাওয়ার পর থেকে আসামি জিয়াউল আহসান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের আগ পর্যন্ত তাকে কখনোই মাতৃবাহিনী তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফেরত যেতে হয়নি। শেখ হাসিনার পুরো আমলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী বা সংস্থায় কাজ করেছেন। পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্স বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে এবং কোনো ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই আসামি জিয়াউল মেজর জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতি পান, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারত্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।


