মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে হত্যার ঘটনায় তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
এদিন সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। পরে জিয়াউলের অব্যাহতি চেয়ে করা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছেন। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গুম কমিশনের রিপোর্ট এই আদালতে দাখিল করা হবে। যত উপাদান আছে তা দিয়ে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হবে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য মতে, এসব অপরাধ কেবল জিয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, বরং তার নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার অধীনের র্যাব সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
প্রসিকিউশন দাবি করে, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে র্যাবে পোস্টিং পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনে পরিণত হন। এর ফল হিসেবে, ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল পদে চাকরিচ্যুতির আগ পর্যন্ত তাকে আর কখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত কাঠামোয় ফিরে যেতে হয়নি। বরং পুরো সময়জুড়েই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসিকিউশন অভিযোগে আরও উল্লেখ করে, প্রয়োজনীয় সামরিক কোর্স বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করা এবং কোনো ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তার পদোন্নতি হয়। এভাবে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে এক বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা।


