জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার পাশাপাশি এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের জেলা মৌলভীবাজার সফরে গিয়ে তিনি এই প্রসঙ্গ টানেন।
একদিনের এই সফরে বুধবার বিকালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সরকার প্রধান। এ সময় ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলে বিরোধী দলের তরফে আসা বক্তব্যের জবাব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন। মনে আছে তো (জামায়াত) একাত্তরে কী করেছিল? মনে আছে তো ৮৬ সালে কী করেছিল?’
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াত জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নেয়। সেই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল।
তারেক আওয়ামী লীগের সবশেষ শাসনামলে জামায়াতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এক যুগ যে আন্দোলন চলেছিল। সেই আন্দোলনের তাদেরকে কোথাও আমরা কিন্তু দেখি নাই।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি শহীদদের তালিকা বের করা হয় দেখা যাবে যে ছাত্রটি মারা গিয়েছে ছাত্রদলের একজন কর্মী, যে ছাত্রটির বউ মরেছে ছাত্র দলের কর্মী, যে যুবকটি মারা গিয়েছে যুব দলের কর্মী, যে যুবকটি গুম হয়েছে যুব দলের কর্মী।’
‘যে মানুষ বিনা কারণে জেলে খেটেছে, খুঁজলে দেখা যাবে সে বিএনপির কর্মী, যে মানুষ মিথ্যা মামলা মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর, খোঁজ করলে দেখা যাবে জিয়াউর রহমান , খালেদা জিয়ার কর্মী’, বলেন তিনি।
জনগণ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে
যারা সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তাদের বিষয়ে জনগণকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, ‘জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য রায় দিয়েছে। জনগনের জন্য দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।’
‘জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, যারা বলে বিএনপিকে সময় দেয়া যাবে না তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছেন না, তারা নিজের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত’, বলেন তিনি।
জনগণ সর্তক থাকলেই বিএনপির কাজ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ দেশের মালিক জনগণ, জনগণের হাতে এই দেশের নিরাপাত্তা, এদেশের উন্নয়ন, এদেশের ভবিষ্যৎ আমি সঁপে দিয়ে গেলাম।’
শ্রীমঙ্গল থেকে বিকাল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মৌলভীবাজারে। এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন তিনি। ১০ জন নারীর হাতে তুলে দেন ফ্যামিলি কার্ড।
এরপর অনলাইনে জেলার ১৯ ওয়ার্ডসহ আরও ২১ জেলার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আগে সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি আম ও নিম গাছের চারা এবং এর আগে শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জাম ও কৃষচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকের আবাসন এবং তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদানসহ দুঃস্থ-অসহায়, প্রতিবন্ধী, প্রন্তিক মানুষের মধ্যে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেকও তুলে দেন সরকার প্রধান।
‘টাকা কোথায় পাবা’
যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না তারা ফ্যামিলি কার্ড করার টাকা কোথা থেকে আসবে, এই প্রশ্ন করছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত এক যুগ আমরা দেখেছি, সারা পৃথিবী দেখেছে, সারা পৃথিবী সাক্ষ্য দিয়েছে কীভাবে এ দেশের অর্থ পাচার হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেই পাচার আমরা রুখে দেব। যারা বলে ‘টাকা কোথা পাবা’, তাদের কাছে এই হচ্ছে আমরা জবাব।’
‘সামনের সময় কাজ করার, দেশ গড়ার, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করার’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আজকে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, এই ৪০ কোটি হাত যদি অবশ হয়ে পড়ে থাকে, অলস হয়ে পড়ে থাকে তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে না।’
প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষ করে সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের উদ্দেশে সড়ক পথে রওনা হন তিনি।


