সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ১৮ জন আইন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল।
তিনি বলেন, পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের আচরণ ও প্রকাশ্য বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি এবং তা রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা বর্তমান সরকারের অধীনে প্রায় চার মাস আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তারা বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করেছেন।’
এতদিন পরে তাদের মনে হলো, এখন আসলে পদত্যাগ করা দরকার অথবা রিমুভ হবেন, তিনি বলেন। তার মতে, পদত্যাগের ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক বিষয় সামনে আনা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।
বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তারা আদৌ সরকারের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত চার মাসে রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে তাদের পরিচালিত মামলাগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করা উচিত।
তারা সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন, নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ করেছে? প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পর পদত্যাগ করে সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া উদ্বেগের বিষয়। তার দাবি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় তারা সরকারের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন বলে বিএনপির কাছে প্রতীয়মান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
এর আগে, মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৮ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন।
তারা সবাই জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানা গেছে। এছাড়া, তারা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস না করা এবং গুম কমিশন অধ্যাদেশ পাস না করার প্রতিবাদে তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের এসব নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেই রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী আইন কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগ করেন।


