ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রতি ভোটারের গড়ে প্রায় দুই মিনিট সময় লাগছে।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের দুটি কেন্দ্র ঘুরে ভোটার, পোলিং এজেন্ট ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পূর্ব গাটিয়াডাঙ্গা হাবিবুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে একটি বুথে গিয়ে দেখা যায়, সকাল আটটা পর্যন্ত ১১টি ভোট পড়েছে। সেখানে দায়িত্বরত পোলিং এজেন্ট শহীদুল ইসলাম জানান, একজন ভোটার দেড় থেকে দুই মিনিট সময় নিচ্ছেন। তবে বয়স্ক ভোটারদের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি লাগছে।
এই কেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় এক হাজার ৮০০ জন। চারটি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। শুরু থেকেই বুথগুলোর সামনে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
একই এলাকার পূর্ব ডেমশা আলমগীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দেবাশীষ ভট্টাচার্য জানান, তার কেন্দ্রের একটি বুথে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ৪০টি ভোট পড়েছে। বয়স্ক ভোটারদের ভোট দিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।
এই কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন হাজার ৮২০ জন। সাতটি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল নয়টার দিকে ভোটারদের লাইন স্কুলের মাঠ ছাড়িয়ে সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এর আগে সকাল ৮টায় নগরীর খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সুন্দর পরিবেশে ভোট দিলাম। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোটাররা বেছে নেবেন।’ এ সময় তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে থাকেন। কেন্দ্র খোলার আগেই নারী ও পুরুষ ভোটারদের আলাদা লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ে ভোট শুরু হলে শৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন তারা। বিশেষ করে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নগরীর কাজির দেউড়িস্থ আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়ানো আবুল হোসেন বলেন, ‘সকাল সকাল চলে এসেছি। এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। অনেক বছর পর ভোট দিচ্ছি। মনে হচ্ছে দেশে কোনো উৎসব হচ্ছে।’
নগরীর ফিরোজশাহ গার্লস স্কুল কেন্দ্রেও দেখা যায় বিপুল সংখ্যক ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার চার হাজার ৫৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই হাজার ২৮৪ জন এবং নারী ভোটার দুই হাজার ২৮১ জন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল্লাহ মুনির জানান, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ভোট দিতে আসা কামরুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি উৎসাহ নিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন। প্রথমবার ভোট দিতে আসা এহসানুল হাকিমও একই অনুভূতির কথা জানান। ভোর ৫টার দিকে কেন্দ্রে আসা কুলসুম বেগম বলেন, বহুদিন পর ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তার সঙ্গে থাকা সায়েরা বেগমও ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ভোটারদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে লাইনে দাঁড়াতে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পর্যবেক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।


