জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস হত্যাচেষ্টা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছেরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক কেএম আবদুল হক আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
গত মঙ্গলবার থেকে তিনি তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। গত ৩০ মার্চ গ্রেপ্তারের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে গেলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিত গুলি চালায়। এতে আহত হন অনিক। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর ২০২৪ এর ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন অনিক।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ২ নম্বর আসামি ওবায়দুল কাদেরের সরাসরি উসকানিতে এবং ৩ নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ১৭ নম্বর আসামি আফজাল নাছের পূর্বপরিকল্পিত নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে জবির অনিক কুমার দাস নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হন, যার শরীরে এখনো চারটি স্প্লিন্টার রয়েছে। ওই ঘটনায় অনিক কুমার দাস কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
রিমান্ড আবেদন বলা হয়, হামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত,পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত উদ্ধারের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন। আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ১৭ নম্বর আসামি আফজাল নাসেরের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।


