জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ১৫

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ১৫
জঙ্গল সলিম্পুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সন্ত্রাসী দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় ভোর থেকে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র। অভিযান এখনও চলছে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে অভিযান থেকে ফিরে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙে দেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য এই সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং এখনও তল্লাশি চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কয়জনকে আটক করা হয়েছে বা কী পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

অভিযানে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া সূত্রমতে, অভিযানে অন্তত ১৫ জন সন্দেহভাজন ‘সন্ত্রাসীকে’ আটক করে একটি মাঠে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সোমবার ভোর ৫টার দিকে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান শুরু করেন। এর মধ্যে তিন হাজারের বেশি সদস্য জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ও দুর্গম এই অঞ্চলটিতে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে আত্মগোপনে থাকছিল এবং অস্ত্র মজুত করে রাখছিল। এ অঞ্চলটি অপরাধী চক্রের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে সুপরিচিত। তাই সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে।

বিশেষ করে র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই মামলার অন্যতম আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন ও তার সহযোগীরা এই এলাকায় অবস্থান করছে, এমন তথ্য পাওয়ার পরই এলাকাটিতে নজরদারি জোরদার করা হয়।

চলমান অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে, আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগে থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযান চলাকালে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কটির আশপাশে সেনাবাহিনীর কয়েকটি সাঁজোয়া যান অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশমুখে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি চলবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর