জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটকেন্দ্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করে ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল প্যানেলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন একে এম রাকিব।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো প্রার্থী বা প্যানেলের টোকেন নম্বর কিংবা ব্যালট তালিকা বহন করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই অদম্য জবিয়ান ঐক্য নামের একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি ভোটকেন্দ্রের বুথের ভেতরেও দেখা গেছে।
রাকিবের অভিযোগ, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে কমিশন প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে প্রমাণ উপস্থাপন করার পর কমিশন অন্য প্যানেলগুলোকেও টোকেন ব্যবহারের অনুমতি দেয়। তবে এতে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন সহজে গ্রহণ করলেও অন্য প্যানেলের টোকেন দেখলে ভিন্ন ও নেতিবাচক আচরণ করছেন। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে টোকেন তল্লাশি করে রেখে দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।
রাকিব বলেন, ’নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’ তিনি অভিযোগ করেন, শহীদ সাজিদ ভবনের ভোটকেন্দ্রে তাদের প্যানেলের এজেন্টরা বিভিন্ন অনিয়মের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অব্যবস্থাপনার চিত্র
এদিকে ভোটগ্রহণের শুরুতে অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু না হওয়া এবং কেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীর প্রচারপত্র সাঁটানো অবস্থায় দেখা গেছে; যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের তৃতীয় তলার বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু হয়নি। সকাল ৯টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ৩১২, ৩১৩, ৩১৫, ৩১৬ ও ৩১৭ নম্বর কক্ষের ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। ভোট দিতে আসা একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্র না খোলায় তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ৩১৬ নম্বর কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি কেবল জানান যে, দ্রুতই ভোটগ্রহণ শুরু হবে, তবে এর বেশ কিছুক্ষণ পরেও কার্যক্রম শুরু হতে দেখা যায়নি।
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও দরজার ওপর প্রার্থীর ছবিসংবলিত হ্যান্ডবিল সাঁটানো অবস্থায় দেখা গেছে। জকসু নির্বাচনের আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কেন্দ্রের ভেতরে বা দেয়ালে কোনো ধরনের হ্যান্ডবিল সাঁটানো যাবে না। এ বিষয়ে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দাবি করেন, দরজার ওপর প্রার্থীর হ্যান্ডবিল সাঁটানোয় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় না।
দেরিতে শুরু হওয়া কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাপারটি দেখছি।


