দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন শেষ হয়েছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিষয়ে অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশ করেছে। নবনির্বাচিত নেতারা এখন দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা কোথায় বসবেন বা কোথা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে জকসুর কার্যক্রমের কার্যকর সূচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জাকসুর জন্য কোনো প্রস্তুত ভবন বা নির্ধারিত অফিস নেই। অতীতে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম একটি আলাদা ভবন বা নির্দিষ্ট কক্ষ থেকে পরিচালিত হতো। কিন্তু দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় সেই সুবিধাগুলো অব্যবহৃত পড়েছিল অথবা অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জকসুর জন্য নতুন অফিস নির্ধারণ করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৭ সালে, যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি কলেজ ছিল। সে সময় অবকাশ ভবনের ২০১ নম্বর রুমটি ছাত্র সংসদের রুম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে জকসু নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে রুমটি ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতারা দখল করে নেয় এবং দীর্ঘ সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ছাত্র সংসদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমটি এখন নোংরা ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। টেবিল-চেয়ারগুলো এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ৫ আগস্টের আগে এটি ছাত্রলীগের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রুমটি সংস্কার করা হয়নি এবং রুমটি তুলনামূলকভাবে ছোট, যেখানে ২১ জন প্রতিনিধির একসঙ্গে বসা অসম্ভব। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহসাধারণ সম্পাদকের (এজিএস) জন্য আলাদা রুম তৈরিরও কোনো জায়গা নেই। এ ছাড়া ডেস্ক, কম্পিউটার বা গোলটেবিল বৈঠকের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।
নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বলছেন, স্থায়ী অফিস ছাড়া জকসুর কার্যক্রম প্রকৃতপক্ষে স্থবির হয়ে পড়বে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের সমস্যা শোনা, প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা এবং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় অফিস অপরিহার্য। অস্থায়ী কোনো রুম থেকে এসব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের পরপর অফিসের জায়গা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে, তবে এই প্রতিনিধি দলের কাজ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রথমে কোনো একটি ভবনে সাময়িকভাবে রুম বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে এবং পরে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে আশা করছেন, জকসু দ্রুত কাজ শুরু করবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন। তবে, অফিস এবং বসার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা এই প্রত্যাশাকে বিলম্বিত করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতার বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।
জকসুর নবনির্বাচিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম জানান, তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু এখনো কোনো স্পষ্ট সাড়া পাননি। নির্দিষ্ট রুম না থাকলে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা যেহেতু তাদের সাথে দেখা করতে আসবেন, তারা এমনকি এটাও জানেন না যে, কোথায় বসে কথা বলবেন। শিক্ষার্থীদের অনেক দাবি বর্তমানে ঝুলে আছে এবং এই সমস্যাগুলো সমাধান না হলে প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি একটি যৌক্তিক সমাধান এবং কাজ করার সঠিক সুযোগ চান বলে জানান।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন শেষ হলেও জকসুর কার্যক্রম এখনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কোথায় বসবেন এই প্রশ্নের দ্রুত সমাধান না হলে শুরুতে জকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই শিক্ষার্থী, প্রতিনিধি এবং প্রশাসন–সবাই শিগগির একটি স্পষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন।
উপাচার্য রেজাউল করিম জানান, যেহেতু এটি (বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর) প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন, তাই তাদের জন্য আগে থেকে কোনো নির্ধারিত জায়গা ছিল না। নতুন ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, অবকাশ ভবনে নাকি অন্য কোথাও জায়গার ব্যবস্থা করা যায়।


