বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন ১৮।
শুক্রবার দুপুর ১২ টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (AQI) দাঁড়িয়েছে ১০১। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তাঘাটে যানবাহন ও মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম হওয়ায় বাতাসে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী বায়ুমান ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আইকিউএয়ার প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত প্রকাশ করে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সেই সম্পর্কে মানুষকে অবগত করে এই প্রতিষ্ঠান।
আইকিউএয়ারের তথ্য মতে, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি (বায়ুমান ২৯৯), এরপর পাকিস্তানের লাহোর (বায়ুমান ২৫৬), তৃতীয় স্থানে অবস্থান কুয়েতের কুয়েত সিটি (বায়ুমান ২১৪)।
এ সময় ঢাকা শহরের আট এলাকার বায়ুমানেও উন্নতি দৃশ্যমান। দক্ষিণ পল্লবী এর বায়ুমান ১৪৪, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ির ১৪২, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ১২৭, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ এলাকায় ১১৫, গোরানে ১০৯, কল্যাণপুরে ১০৫, ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ৯৯, বে’জ এজ ওয়াটারে ৮১।
আইকিউএয়ার-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ঢাকা ও অন্য শহরগুলোর যে বায়ুমান, এর পরিপ্রেক্ষিতে নগরবাসীর জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরামর্শগুলো হলো- সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষ, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা, শিশু বা শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা বাইরে গেলে মাস্ক পরে যেতে হবে। খোলা স্থানে শরীরচর্চা বন্ধ রাখতে হবে এবং জানালা বন্ধ রাখতে হবে।
বাতাসে কণা দূষণের এই সূচক ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। বায়ুমান ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, বায়ুমান ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া, বায়ুমান ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১ এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে। সেগুলো হলো বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোন।


