চুয়াডাঙ্গায় ‘স্পিরিট পানে’ ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নতদন্ত ছাড়াই দাফন হওয়া চার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মরদেহ তোলার কাজ শুরু করে পুলিশ। উত্তোলন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হোসেন আলী জানান, পিরোজখালি গ্রামের লাল্টু হোসেন (৫২), খেজুরা গ্রামের সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী (৫০) এবং শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লার (৪৫) মরদেহ কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
এর আগে, ৯ অক্টোবর রাতে জেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে মদ পান করেন। এর পর ১১ অক্টোবর তাদের মধ্যে চারজন অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাদের পরিবার তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদের দাফন করে ফেলে।
পরদিন ১২ অক্টোবর আরও দুজনের মৃত্যু হলে বিষক্রিয়ায় একাধিক মৃত্যুর বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এ সময় বিষাক্ত মদ বিক্রির অভিযোগে ফারুক আহমেদ (৪০) নামের এক ব্যক্তি আটক হন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ ও ১২ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ৬ জন ব্যক্তি মারা যান। এর মধ্যে দুই জনের মরদহে উদ্ধার করা হলে তাদের ‘অ্যালকোহলিক পয়জনিং’ (বিষাক্ত মদ্যপান) থেকে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন চিকিৎসকরা।
এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করেন মৃত লাল্টুর ভাই। ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত ১৪ অক্টোবর আরও চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চায় পুলিশ। ১৬ অক্টোবর আদালত অনুমতি দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদা মনিরের নেতৃত্বে মরদেহ গুলো উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।


