বন্যপ্রাণী খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চুয়াডাঙ্গায় চারজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় শিকারিদের কাছ থেকে ছয়টি মৃত ও পাঁচটি জীবিত খরগোশ উদ্ধার করা হয়।
খরগোশগুলো ফাঁদ পেতে ধরার পর দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে শিকারিরা। জীবিত খরগোশগুলো বনে অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। চার শিকারিকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, সাধুহাটি এনায়েতপুর গ্রামের সাদগার আলী, একই গ্রামের সুকুমার মন্ডল ও সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি এলাকা থেকে ১৪-১৬ জনের বন্যপ্রাণী শিকারি দল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে আসে। তারা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে খরগোশ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতে। ছয়টি খরগোশ ফাদে আটকা পড়লে দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে। পাঁচটি জীবিত খরগোশ আটকে রাখে।
বন্যপ্রাণী খরগোশ শিকারের বিষয়টি জানতে পারেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। তিনি বিষয়টি সদর উপজেলা বন বিভাগকে অবহিত করে। এরপর বিকালে তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্প, বন বিভাগ ও স্থানীয় বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে অভিযান চালিয়ে চার শিকারিকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়।
বিষয়টি সন্ধ্যায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আমিনুল ইসলামকে জানানো হয়। রাতে তিনি ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে চার জনকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেন। সাজা প্রাপ্তদের রাতেই পুলিশ প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
সেখানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতাসহ স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


