চুয়াডাঙ্গায় ‘অপহরণের’ নয় দিন পর এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের অর্জুনখালে মরদেহটি ভেসে উঠার পর দুপুরে উদ্ধার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার কুতুবপুর ক্যাম্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি শনাক্ত করেছে।
নিহত যুবকের নাম রাফিন (২২)। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদহ ইউনিয়নের চিলাভালকি গ্রামের সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে। পেশায় অটোরিকশা চালক।
রাফিনের দাদী আমেনা খাতুন জানান, গত ৫ জুন সকালে রাফিন নিজের ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তারা, রাফিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে ফোনটি বন্ধ পান।
এরপর রাত ৮টার দিকে অন্য একটি মোবাইল নম্বর থেকে তার পরিবারের মোবাইল ফোনে কল আসে। কলদাতা দাবি করেন, রাফিনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
এ ঘটনার পর আলমডাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তারা রাফিনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি; বরং ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে মারধরের শব্দ শোনানো হয়েছে।
আমেনা খাতুন আরও জানান, রাফিন দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গেই বসবাস করছিলেন। তিনি ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
কুতুবপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই শাহাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার গভীর রাতে খালে মরদেহটি প্রথম ভেসে উঠে। তবে রাত গভীর হওয়ায় তখন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকালে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করার পর দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।


