জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আরও সুগম করতে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নতুন চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ ও জাপান।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর, যা পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে।
গত ১৭ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ (ইএসডিপি-এমওসি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা সই করেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রাখা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছরের প্রচেষ্টায় চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ চুক্তি বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।


