জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লঘুদণ্ডের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ স্থগিত চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা যেন জামিন ও মুক্তি না পান, সে বিষয়ে আর্জি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালতে আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
আগামী রোববার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। বাকি দুজন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। তাদের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়।
মামলার বাকি পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যার মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
তবে এই রায় প্রত্যাখ্যান করে প্রসিকিউশন ও শহীদ পরিবার।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরে লঘুদণ্ড ন্যায়বিচারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত আনাসের নানাও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, ‘এটা কোনো সাজা হলো? আমরা তীব্র নিন্দা জানাই, ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’
পরদিন এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয় নিহতদের পরিবারগুলো।


