ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর চাকসু নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর তাই চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
চাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব নির্বাচনে প্রার্থীরাই ভোট গণনার মেশিন বেছে নেবেন।
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ওএমআর মেশিন নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে চাকসুর প্রার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে একাধিক কোম্পানির ওএমআর মেশিন। প্রার্থীরা লিখিতভাবে তাদের মতামত জানাবেন। আর তার ওপর ভিত্তি করেই বেছে নেওয়া হবে চাকসু নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ওএমআর মেশিন।
চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী টাইমস অফ বাংলাদেশকে বলেন, ‘নির্বাচন স্বচ্ছ করার জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় আমরা তা করব। প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।
ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী মুহাম্মদ শাফায়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা ম্যানুয়াল ভোট গণনার আবেদন জানাব। তবে কমিশন যদি সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সেটাকে সাধুবাদ জানাই।’
সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম রনি বলেন, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কমিশনের এই পদক্ষেপ ভালো উদ্যোগ।’
নারী প্রার্থীর হার মাত্র ১১.২%, নেই ভিপি পদে
চাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ৪২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৮ জন নারী, যা প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে- সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সহ-দপ্তর সম্পাদক, সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে একজন করে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক, সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দুইজন করে, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে তিন জন, ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ১২ জন, নির্বাহী সদস্য ছয় জন এবং সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ১১।
তফসিল ও প্রার্থী সংখ্যা
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং সোমবার প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা এবং ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হবে চূড়ান্ত তালিকা। ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এবার কেন্দ্র ও হল সংসদ মিলিয়ে ১ হাজার ১৬৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তবে জমা পড়েছে ৯৩১টি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ৪২৯টি মনোনয়ন গৃহীত হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় বৈধ হয়েছে ৪১২ জনের প্রার্থিতা। এর মধ্যে ভিপি পদে ২৩, জিএস ও এজিএস পদে ২১ জন করে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৬৩৭ জন। সবশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ নভেম্বর।


