আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫৪৭ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার কারণ ব্যাখ্যা করলেন ব্যাংকটির নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ।
শনিবার রাতে ব্যাংকটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) পরিচালিত একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হয়, যা মেধা যাচাইয়ের একটি বৈধ ও স্বীকৃত উপায়। কিন্তু এ নিয়োগের প্রক্রিয়া ছিল সুপারিশভিত্তিক, অস্বচ্ছ ও নিয়ম-নীতি বহির্ভূত, যা অডিটে প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগে, শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ৫৪৭ জন কর্মকর্তা তাদের পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেছিলেন, অজানা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মূল্যায়ণ পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৪১৪ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৮৬৪ জন কর্মকর্তা নির্ধারিত মান অর্জন করে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন এবং ৫৪৭ জন কর্মকর্তা নির্ধারিত মান অর্জন করতে পারেননি।
এই ফলাফলের ভিত্তিতে যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, ব্যাংকের চাকরি বিধি এবং বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে সম্মানজনক ও মানবিক প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়, যা ছিল প্রতারণামূলক।
কক্সবাজার শাখার কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার হলে গিয়ে আমরা বুঝতে পারি এটা মূল্যায়ন নয়, বরং নতুন নিয়োগ পরীক্ষা। অথচ আমাদের কোনো পক্ষ থেকেই আগাম জানানো হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে উল্লেখ ছিল, এক বছরের মধ্যে অযোগ্যতা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত করা যাবে। কিন্তু আমাদের অনেকের চাকরির বয়স দুই থেকে পাঁচ বছর। এখন কীভাবে এই নিয়ম ভঙ্গ করে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হলো?’
এ প্রসঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘একটি স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। যারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত, বেআইনি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।’


