চলতি মাসেই ‘জুলাই সনদ’: আলী রীয়াজ

চলতি মাসেই ‘জুলাই সনদ’: আলী রীয়াজ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার শুরুতে ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ছবি: বায়েজীদ আকতার/টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে “জুলাই সনদ”-এ পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের দ্বিতীয় দফার সপ্তম দিনের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়েই হয়তো একটা সনদে যেতে পারব। আপনাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা সবচেয়ে বড় জিনিস।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি, যেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।’

সংস্কার নিয়ে জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থানের কারণে প্রতিদিনের আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কমিশন আশাবাদী যে এক জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এ ছাড়া কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. আইয়ুব মিয়াও উপস্থিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

আজকের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের নীতিমালা।

ঐকমত্য কমিশন সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য তৈরির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় প্রায় ২০টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯টি বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

এর মধ্যে দুটি বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য এবং কয়েকটি বিষয়ে আংশিক ঐকমত্য হয়েছে। তবে এখনো কোনো প্রস্তাব আলোচনার টেবিল থেকে বাদ পড়েনি।

যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিরোধী দল থেকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিয়োগ, ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি), রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নির্ধারণ এবং সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি স্পষ্টীকরণ।

এনসিসির পরিবর্তে ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি’ গঠনের একটি বিকল্প প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।

৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এবং বিরোধী দলকে আসনের অনুপাতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। এছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন- এমন প্রস্তাবেও দলগুলো মোটামুটি একমত, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

এদিকে নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, জরুরি অবস্থা ঘোষণার নিয়ম, স্থানীয় সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্ব, উচ্চকক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad