চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’।
রোববার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সাদা দল বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিকভাবে হেনস্তা করা শিক্ষাঙ্গণে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে, শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে আইন অনুষদের সামনে চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে ওই শিক্ষককে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়।
হেনস্তার শিকার শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের একাংশের সঙ্গে যুক্ত। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর।
বিবৃতিতে সাদা দল আরও বলেছে, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো আইন ও প্রশাসনিক তদন্ত, কোনোভাবেই ‘মব জাস্টিস’ নয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সাদা দলের নেতারা মনে করেন, একই ধরনের ঘটনা ইতঃপূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে, যা ক্রমে শিক্ষার পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
গত তিন থেকে চার মাসে ক্যামপাসগুলোতে ‘মব সংস্কৃতি’ ও ‘শিক্ষক নিপীড়নের’ প্রবণতা নতুন করে বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সাদা দল জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একই সঙ্গে তারা দাবি জানিয়েছে, যারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি ও হেনস্তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রকৃত অপরাধী যেন দীর্ঘদিন শাস্তির বাইরে না থাকে। একই সঙ্গে ভিন্ন মতাবলম্বী হলেও কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন।’


