চট্টগ্রাম বন্দরের সেবার বিপরীতে প্রায় ৪১ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে আসবে।
মঙ্গলবার উত্তরার বিজিএমইএর কমপ্লেক্স ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ৪০ বছর পর মাশুল বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার দর বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত অর্থে মাশুল ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
বিজিএমইএ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর ডলারে মাশুল আদায় করে থাকে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে যেখানে প্রতি ডলার ছিল ২৯ দশমিক ৮৯ টাকা, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকার বেশি।
সংগঠনটির দাবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ কখনও লোকসানে যায়নি, বরং প্রতিবছরই মুনাফা করছে। তাই সেবার মান উন্নয়ন না করে কেবল মাশুল বাড়ানো অযৌক্তিক। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের ৪০৩টি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৫৭তম, যা এর অদক্ষতা নির্দেশ করে। বিজিএমইএর মতে, এই পরিস্থিতিতে ব্যয় বাড়ানো নয়, বরং দক্ষতা বাড়ানোই জরুরি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর সাম্প্রতিক অনুমোদন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। বিজিএমইএর দাবি, মাত্র ২০ শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ দিলে তা শিল্পে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করবে ও উৎপাদন ব্যাহত করবে।
তাদের মতে, ভারতে ইউনিয়ন গঠনে ন্যূনতম ১০০ শ্রমিকের সম্মতি লাগে, পাকিস্তানে লাগে ২০ শতাংশ শ্রমিকের অনুমোদন। ফলে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কাঠামো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল।
এছাড়া, ভবিষ্যৎ তহবিল ও সার্বজনীন পেনশন ‘প্রগতি’—এই দুই স্কিম একসঙ্গে চালুর সিদ্ধান্ত উদ্যোক্তাদের জন্য দ্বৈত আর্থিক জটিলতা তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেছে বিজিএমইএ।
অন্যদিকে বিজিএমইএ জানিয়েছে, শ্রম ব্যয়, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, গ্যাস ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, এবং রপ্তানি প্রণোদনা হ্রাস, সব মিলিয়ে শিল্পখাতে ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রির(ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যবসায়ী নেতারা।


