চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে। তারা চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের ২৪টি পরিচালক পদের সবকটিতেই বিজয়ী হয়েছে।
আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গণনা শেষে শনিবার বিকালে নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
পরিচালনা পর্ষদের ১৮টি পরিচালক পদে সরাসরি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ৬টি পদে টাউন অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রেড গ্রুপ বিভাগ থেকে আগেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর ফলে ২৪ সদস্যের পুরো পরিচালনা পর্ষদই ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের নিয়ন্ত্রণে এলো।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে এক দশকেরও বেশি সময় পর চট্টগ্রাম চেম্বারে পরিচালকদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া ফিরে এলো। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে কোনো রকম নির্বাচন ছাড়াই চেম্বারের কমিটি গঠন করা হয়ে আসছিল।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৬ হাজার ৭৮০ জন ভোটার নিবন্ধিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭২৫ জন। সেই হিসাবে ভোট পড়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, সাধারণ বিভাগ থেকে ১২ জন, সহযোগী বিভাগ থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ বিভাগ থেকে ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এই ২৪ জন পরিচালক মিলে পরবর্তীতে চেম্বারের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং সহ-সভাপতি নির্বাচন করেন।
চেম্বার সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসিডিয়াম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেদিন নবনির্বাচিত পরিচালকেরা ভোট দিয়ে একজন সভাপতি এবং দুজন সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।
সাধারণ বিভাগে কামাল মোস্তফা চৌধুরী সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এরপর এএসএম ইসমাইল খান এক হাজার ৩৭৪, আবু হায়দার চৌধুরী এক হাজার ৩৬৪, মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী এক হাজার ৩৫২, নাসির উদ্দিন চৌধুরী এক হাজার ৩২১, আসাদ ইফতেখার এক হাজার ৩০৬, আমান উল্লাহ আল ছাগীর এক হাজার ২৭৭, মো. গোলাম সারোয়ার ও মো. হাবিবুর রহমান উভয়েই এক হাজার ২৫৯ ভোট করে, মো. শফিউল আলম এক হাজার ২৪৯ এবং মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী এক হাজার ২১১ ভোট পেয়েছেন।
সহযোগী বিভাগে মো. জাহিদুল হাসান ৬৮৭, মো. নুরুল ইসলাম ৬৬১, মো. সেলিম নূর ৬৪৬, সারোয়ার আলম খান ৬৪১, মো. মশিউল আলম ৬৩২ এবং মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ ৬১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
ট্রেড গ্রুপ বিভাগে মোহাম্মদ আক্তার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং এসএম সাইফুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। টাউন অ্যাসোসিয়েশন বিভাগ থেকেও আফসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন এবং মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নওয়াজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা এবং নবনির্বাচিত পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ব্যবসায়ী সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই ভোটের মাধ্যমে চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চাচ্ছিলেন। ব্যবসায়ীরা যেন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতা বেছে নিতে পারেন, তারা সেটাই চেয়েছিলেন এবং অবশেষে সেটিই সত্যি হলো।
এই নির্বাচনে ভোটারদের বেশ ভালো উপস্থিতি দেখা গেলেও ভোট গ্রহণের মাঠে কেবল একটি প্যানেলের প্রার্থীরাই উপস্থিত ছিলেন। কারণ দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের মধ্যে একটি প্যানেল এই নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ২২ মে এসএম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ প্যানেল নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।


