চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৭৫ জন শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আট শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে ৩৫ এবং জেলা থেকে ৪০টি স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনে ছয়জনের এবং জেলায় দুজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া, সিটি কর্পোরেশনে একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার তিনটি হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এ ছাড়া, নমুনা সংগ্রহ করা বাকি ১২ শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
নমুনা পাঠানো শিশুদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকেই সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। হাসপাতালটির শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে গত এক সপ্তাহে ১৮ জন শিশু ভর্তি হয়, যাদের মধ্যে একজনের শরীরে আগেই হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১৭ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে প্রথম হাম শনাক্ত হয় বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল ইউনিয়নের ৫ মাস ১৫ দিন বয়সী শিশু আলী বিন সেলিমের। হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রথমে সে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্য রোগের চিকিৎসায় ভর্তি ছিল, যেখানে একই ওয়ার্ডে জ্বর ও ফুসকুড়িযুক্ত আরও অনেক শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। হাম শনাক্ত হওয়ায় পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে পাঁচ মাস বয়সী আরেক শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। তার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলায়। একই সময়ে ওই হাসপাতালে আরও নয়জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও একজন শিশু ভর্তি আছে।
জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে মোট ৭৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদা আখি বলেন, চমেক হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘১০ দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়নি। যাদের শরীরে র্যাশ দেখা গেছে, তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে, তবে এখনো পরীক্ষায় নতুন করে কারো হাম পজিটিভ আসেনি।’
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিঞা জানান, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স ১৫ মাসের নিচে। তাদের মধ্যে জ্বর, শরীরে র্যাশ এবং অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, হামের লক্ষণ থাকা শিশুদের আলাদা কর্নারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


