যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে

যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার বিচারের দাবির প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিষয়টি যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা (পুলিশ) হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাচাকার করেছে, গণহত্যা করেছে, তারা জনতার প্রতিরোধে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে। কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে। আর জুলাই যোদ্ধাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।’

সোমবার বিকালে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নটি করেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়াতে দাবি করছে, সমস্ত হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে কি না। আমি সেই বিষয়ে একজন অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে, রাজাকার হত্যার বিরুদ্ধে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। ইনডেমনিটি দেওয়ার এই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ নামে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এখানে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, সংসদীয় এই অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রণয়ন করার জন্য আগামী দুই তারিখে সেখানে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা এই জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশটা সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছি।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুই একটি মামলা এবং তার সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুই একটি মামলার রায়ও ঘোষিত হয়েছে এবং সেই রায়গুলো টেলিভিশনের মাধ্যমে লাইভ টেলিকাস্ট করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন। আশা করি, অন্যান্য মামলাতেও আইসিটি কোর্ট হোক বা অন্যান্য আদালত হোক, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করব না, করতে চাই না। এটাই বর্তমান আইনের শাসনের ব্যবস্থা। এদেশের সকল গুম-খুন, হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার হবেই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল বাহিনীতে রূপান্তরের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সারা দেশে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, মধ্যম মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং স্বল্পমেয়াদি বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংযোজন অব্যাহত আছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধ শনাক্তকরণ ও তাদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

সিডিএমএস-এর মাধ্যমে রেকর্ডকৃত মামলা/অপরাধ/অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা মামলা তদন্ত কার্যক্রম ও তদন্ত মনিটরিংয়ে সহায়তা করছে। থানায় অনলাইন জিডি ও অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চালু করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad