চট্টগ্রামের প্রকৌশল শিক্ষার্থী শামীম মাকসুদ খান জয় বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে মাকে বলে গিয়েছিলেন, চাকরির ইন্টারভিউ আছে। সে কারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বাসায় রেখে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পরই চট্টগ্রামের বে-টার্মিনাল এলাকায় মিলেছে জয়ের হাত-পায়ের রগ কাটা মরদেহ।
জয় হত্যার শিকার নাকি চাপের মুখে আত্মহত্যা করেছেন তা এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ।
বন্দর পুলিশের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যাগ, বই ও একটি চাকু উদ্ধার করেছি। জয় হয়ত ভয় বা চাপের মুখে আত্মহত্যা করেছে। তবে আমরা সব দিকই খতিয়ে দেখছি।’
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে বন্দর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন জয়ের বাবা শহীদুল হক খান।
একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জয়কে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করছিল বলে অভিযোগ করেন জয়ের বাবা। তিনি বলেন, ‘জয় কিছু টাকাও দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওরা ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলেছে।’
বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করছি না।’
এর আগে রোববার রাতে নগরীর বন্দর থানার আনন্দবাজারের সাগরতীরের কাশবন থেকে ২৬ বছর বয়সী জয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেদিন দুপুরে জয় বাসা থেকে বের হন। বের হওয়ার আগে মোবাইলে একটি কল পান এবং মাকে জানান, ফোন করা ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। তার একটি চাকরির ইন্টারভিউ আছে বলেও জানান। আর এ কারণেই মোবাইলটি বাসায় রেখে যান। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
জয়ের ছোট ভাইয়ের দাবি, জয় তাদের আগেই জানিয়েছিলেন আগ্রাবাদের বড়পুল এলাকায় কিছু লোক তাকে আটক করে গোপনে ভিডিও করে। এরপর থেকে তারা সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।


