চট্টগ্রামে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রামে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৪
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দনা শীল (২২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এর আগে, শুক্রবার সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন পীযুষ শীল ওরফে প্রিতম (২৩), নজরুল ইসলাম (৩৮) ও মো. ইলিয়াস (৩৫)।

এসআরবি জানায়, শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে মানু মিয়া চৌধুরীর বাড়ির পাশে একটি জমির আইলে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ওই নারীর দুই হাত কাপড় দিয়ে সামনের দিকে শক্ত করে বাঁধা ছিল। গলায় প্যাঁচানো ছিল ওড়না। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা ওই নারীকে চন্দনা শীল হিসেবে শনাক্ত করেন। তিনি সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে।

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা এলাকার দিলীপ শীলের ছেলে শিমুলের সঙ্গে চন্দনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে চার লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে চন্দনা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়িতে পাঠান।

এসআরবি জানায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেরিয়াইল বাজার এলাকায় চন্দনার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর তাকে টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে একটি জমির আইলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পরনের ওড়না দিয়ে দুই হাত বুকের ওপর বেঁধে ও ওড়নার বাকি অংশ গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় চন্দনার বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার ছায়া তদন্ত ও নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে মামলার প্রধান আসামি শিমুল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পীযুষ শীল ওরফে প্রিতমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর রাত ১১টা ২৫ মিনিটে বারবকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে এবং রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ফকিরহাট এলাকা থেকে মো. ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad