চট্টগ্রামের পটিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী আবুল কাশেমকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার দুই নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তার নাম মো. আবু তাহেরকে (৪০)।
শুক্রবার বিকালে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার চৌকির হাট মালাহার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৭ চট্টগ্রাম এবং র্যাব-১২ এর সিরাজগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার আবু তাহের পটিয়া থানার দক্ষিণ গোবিন্দারখিল এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭।
গত ১৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে পটিয়া পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছিপাতলি এলাকায় নিজেদের মৌরশী জমিতে সংস্কার কাজ করছিলেন ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও তার দুই ভাই। এ সময় প্রতিবেশী মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আবুল কাশেমের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার দুই ভাই আবুল কালাম ও আবুল মুছাও মারাত্মক আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার ছয় দিন পর গত ২০ এপ্রিল সকালে আবুল কাশেমের মৃত্যু হয়। নিহত কাশেম পটিয়া পৌর সদরের স্টেশন রোড এলাকায় সুপারির ব্যবসা করতেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জায়গা-জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কাশেমদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল পটিয়া থানায় মোহাম্মদ ইকবালকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করা হয়।
র্যাব জানায়, মামলা হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার দুই নম্বর আসামি আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
তবে, এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইকবালসহ অন্যরা ২০২১ সালে পটিয়া পৌরসভা নির্বাচন চলাকালীন সংঘটিত মোহাম্মদ আব্দুল সওদাগর হত্যা মামলারও আসামি ছিল। ওই মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


