চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে শহরের প্রধান ঈদুল আজহার জামাত। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এ জামাতে হাজারো মুসল্লি অংশ নেয়।
এদিন সকাল ৭টায় প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুটজুড়ে নির্মিত বিশাল প্যান্ডেলের নিচে প্রথম ও ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দীর্ঘ কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেন।
জামাতে ইমামতি করেন হযরতুল আল্লামা আলহাজ সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী, যিনি জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব। দুই রাকাত ঈদের নামাজ শেষে তিনি খুতবা দেন।
খুতবায় ইসলামে কোরবানির তাৎপর্য, কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক নিয়ম এবং আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিবদের মধ্যে মাংস বণ্টনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
পরে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের চেতনায় কোলাকুলি করেন।
মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়। পুরো ময়দানে প্রায় ১৪০টি সিলিং ফ্যান, ৬০টি স্ট্যান্ড ফ্যান, ৭০টি মাইক্রোফোন এবং ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সার্বিক নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।
একই জায়গায় দ্বিতীয় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমাদুল হক।
জমিয়তুল ফালাহ ময়দান ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর নয়টি মসজিদে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল ৮টায় আরেকটি বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন আল্লামা ড. সৈয়দ আবু নোমান।
ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় নগরজুড়ে মুসলমানরা কোরবানির পশু জবাইয়ে অংশ নেন। অনেক পরিবার ভোর থেকেই কোরবানির প্রস্তুতি শুরু করে। দিনভর আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
যদিও অনেক বাসিন্দা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন, তবুও নগরবাসীরাও আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন।


