সবজির চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠে গেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। অধিকাংশ কাঁচাবাজারেই প্রায় সব ধরনের সবজির বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এর কমে যেন কোনো সবজিই বাজারে নেই। গত ১০ দিন ধরে সবজির এই বাড়তি দাম সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে মাছ ও মাংসের চড়া দাম এড়িয়ে এতদিন সবজির ওপর নির্ভর করলেও এখন সেই বাজারও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
শুক্রবার নগরীর হালিশহর, পাহাড়তলী ও আকবরশাহ এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন ও মৌসুমি সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, কাঁকরোল ১৬০ টাকা। এছাড়া ঝিঙ্গা ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্য সবজির মধ্যে ধন্দুল, করলা, শসা ও বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মূলা, টমেটো ও ঢেঁড়সের দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা এবং কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
সম্প্রতি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া টমেটোর দামও বেড়ে এখন প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পৌঁছেছে। বেগুনের দামও হঠাৎ বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কেবল চড়া দামই নয়, বাজারে সবজির সরবরাহও তুলনামূলক কম।
তবে আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত এক মাস ধরে ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা এবং জ্বালানি সংকটজনিত পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াই দামের ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।
চট্টগ্রাম রিয়াজ উদ্দীন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. সাদেক টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, উত্তরবঙ্গ ও আশপাশের এলাকা থেকে সবজি আনতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনেকেই চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছেন। আগে যেখানে এক বা দুই কেজি কেনা হতো, সেখানে এখন অনেকেই ২৫০ গ্রাম বা আধা কেজিতে সীমাবদ্ধ থাকছেন।
এদিকে মাছের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কম থাকায় পুকুরের মাছ তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, রুই ৩০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক জেলে সাগরে যেতে পারছেন না, ফলে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে গেছে।
পাহাড়তলী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সব ধরনের সবজির দামই এখন অনেক বেশি। বেশিরভাগই ১০০ টাকার কাছাকাছি, কিছু ৮০ টাকার মধ্যে। অল্প কিছু ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মোটের ওপর প্রতিটি সবজির দামই এখন অতিরিক্ত।’


