পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় মনজুর খান প্লাজায় লাগা আগুন নিভেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ আগুন নিভেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্র।
এর আগে, সোমবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে মার্কেটের ষষ্ঠ তলার একটি দোকানে আগুন লাগে। পরে ৫টা ২২মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে, পর্যায়ক্রমে ইউনিট বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন লাগার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে ধোঁয়ায় চার ফায়ার ফাইটার আহত হন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পুরান ঢাকার সরু রাস্তা এবং ভবনের কাঠামোগত অবস্থার কারণে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত ও ভারী গাড়ি ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, আগুনে ভবনটির ছয়তলায় থাকা গোডাউনগুলো পুড়ে গেছে। ভবনটিতে কসমেটিকস ও ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের গোডাউন রয়েছে। একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে প্রচুর মালামাল মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রায় ১৫০ জন কর্মী কাজ করেন। তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।
ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি নিজে ভবনের ওপরের অংশে গিয়ে কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখেছেন। তবে অন্য কোনো ব্যবস্থা তার চোখে পড়েনি।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি জানান, কত টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ বলতে পারবে। এটি নির্ধারণ করতে কিছুটা সময় লাগবে।


