ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে গ্যাসনির্ভর দুটি কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে আরও পাঁচটি কারখানার গ্যাসনির্ভর ইউনিট। এতে এক হাজারের বেশি শ্রমিক সরাসরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া ও সাময়িক ছুটির কারণে উদ্বেগে রয়েছেন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভালুকার কাঠালী এলাকার ওসমান গ্রুপের রাসেল স্পিনিং মিল গত বুধবার থেকে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া শুরু করে। বৃহস্পতিবার থেকে কারখানাটির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই কারণে এক্সিলেন্ট টাইলসের গ্যাসনির্ভর উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে।
রাসেল স্পিনিং মিলের সংশ্লিষ্ট ইউনিটে ৬৭২ জন এবং এক্সিলেন্ট টাইলসে ৩৭২ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। দুটি কারখানায় মোট ১ হাজার ৪৪ জন শ্রমিক কাজ করতেন। গ্যাস সংকটে তাদের স্বাভাবিক কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
আংশিকভাবে বন্ধ থাকা পাঁচটি কারখানা হলো এক্সিলেন্ট সিরামিক, সৌদি বাংলা ফিডস, আকবর কটন, ডেনিস মাল্টিপারপাস ও তাল্লু স্পিনিং মিল। তবে শেফার্ড গ্রুপের ফ্যান্সি ইয়ার্ন নামের একটি কারখানা শনিবার গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকলেও রোববার আবার চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
স্থানীয় শ্রমিক সুজন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন হচ্ছে না। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের মতো শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। আমরা প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবার চালাই। কাজ বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হবে।’
কারখানার কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের নিম্নচাপে স্পিনিং, টেক্সটাইল ও সিরামিকসহ গ্যাসনির্ভর শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় কোথাও উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও গ্যাসনির্ভর ইউনিট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি সাময়িক ছুটিতেও পাঠানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারখানা কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদনের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভালুকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানকার কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা ও রপ্তানি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন বলেন, ভালুকায় গ্যাসের চাপ এখনো তেমন বাড়েনি। আগের মতোই কম চাপ রয়েছে। বিশেষ করে স্পিনিং মিলগুলো গ্যাসসংকটে চরম সংকটে পড়েছে এবং এসব কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, ভালুকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআই সক্ষমতার দুটি আলাদা লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে রোববার সরবরাহ লাইনে যথাক্রমে মাত্র ৬০ ও ৫০ পিএসআই চাপ পাওয়া গেছে। সোমবার চাপ কিছুটা বেড়ে ৯০ পিএসআই হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, গ্যাসের চাপ দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে ভালুকার শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে। এতে কারখানা মালিকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন হাজার হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার।


