বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ভৈরবে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি শাখায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং লেনদেনের হিসাব ছাপিয়ে শাখাটি হয়ে ওঠে ফুটবল উৎসবের মঞ্চ। এদিন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও গ্রাহকেরা প্রিয় দলের জার্সি পরে কার্যক্রমে অংশ নেন।
শাখা প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী গোলপোস্টে গোল দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন গ্রাহকেরা। গ্রাহক ফুরকান আহমেদ বলেন, ‘টাকা জমা দিতে এসে গোলও দিয়ে ফেললাম। এমন দিন তো বারবার আসে না।’ আরেক গ্রাহক শরিফ নেওয়াজ ভুইঞা বলেন, ‘ব্যাংকে এসে এতটা আনন্দ পাব, ভাবতে পারিনি।’
খেলাধুলার পাশাপাশি ছিল বিশ্বকাপভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। এবারের ২৩তম বিশ্বকাপে তিনটি দেশের ১৬টি ভেন্যুতে ১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সর্বোচ্চ ৪৮টি দেশ লড়ছে ১৭ মিলিয়ন ডলারের ট্রফির জন্য। ব্যাংকের লেনদেনে জমা বা উত্তোলনের অংকে এই সংখ্যাগুলোর মিল থাকা গ্রাহকদের ফুটবল, পতাকা ও বাঁশিসহ নানা উপহার দেওয়া হয়। উপহার পেয়ে মজিবর রহমান বলেন, ‘ফুটবল মানুষকে এক করে–আজ এখানে সেটার বাস্তব উদাহরণ দেখলাম।’
শাখার ক্যাশ ইনচার্জ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘এসব কেবল সংখ্যা নয়, এটি ছিল এক ধরনের প্রতীকী অর্থনীতি, যেখানে বৈশ্বিক খেলার পরিসংখ্যান স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’
আয়োজনে গ্রাহকদের জন্য ছিল ঐতিহ্যবাহী খাবারের আপ্যায়ন এবং মুখে ও হাতে প্রিয় দলের পতাকা আঁকার ব্যবস্থা। এর আগে দিনের শুরুতে কর্মকর্তারা ভৈরব পৌরসভায় সংরক্ষিত ১৯৩৭ সালের ৫০০ ভরি রৌপ্য খচিত ‘শের-এ বাংলা মেমোরিয়াল চ্যালেঞ্জ শিল্ড টুর্নামেন্ট’-এর পদক পরিদর্শন করেন। এ সময় পৌর প্রকৌশলী আব্দুল বাতেন নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বের কথা জানান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ভৈরব উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভিপি মজিবর রহমান বলেন, ‘ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি মানুষের অনুভূতি। এখানে এসে সেই অনুভূতির প্রতিফলন দেখলাম।’ ভৈরব ফুটবল একাডেমির সংগঠক আমিনুল ইসলাম যোগ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।
শাখা ব্যবস্থাপক রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ব্যাংককে মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে। ফুটবল সেই সুযোগ তৈরি করেছে।’ দ্বিতীয় কর্মকর্তা সাজন খান বলেন, ‘আমরা দেখেছি গ্রাহক শুধু সেবা নিতে আসে না, সে অভিজ্ঞতাও খোঁজে।’


