জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম। উত্তেজিত হয়ে গোটা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালিয়েছে ক্ষুব্ধ দর্শকেরা। তাদের অভিযোগ, গ্যালারির ৫০ টাকার টিকেট ২০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল টেকনাফ উপজেলা ও রামু উপজেলা দল। ম্যাচ ঘিরে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসও ছিল তুঙ্গে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ জনতার তোপে পণ্ড হয় ম্যাচ। উত্তেজিত দর্শকদের মাঠ থেকে সরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলে, অসংখ্য দর্শক ও সংবাদকর্মী আহত হন।
খেলা উপভোগ করতে আসা অনেকে জানান, টেকনাফ উপজেলা দলের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে হাজারও দর্শক টেকনাফ থেকে কক্সবাজারে আসেন। বিকেল ৩টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুম্মার নামাজের আগেই পুরো স্টেডিয়াম দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এবারের টুর্নামেন্টের টিকিট বিক্রির ইজারা নিয়েছিলেন স্থানীয় এক ছাত্রনেতা। তার লোকেরা চড়া দামে টিকিট বিক্রি করছিল বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
তবুও টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ স্টেডিয়াম ভবনের দক্ষিণ পাশের গেইট ভেঙ্গে মাঠে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকেই উত্তেজনার শুরু। আয়োজক কমিটি ও আইনশৃংখলা বাহিনী মাঠ থেকে ওই দর্শকদের সরিয়ে দিয়ে খেলা শুরুর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

একপর্যায়ে স্টেডিয়ামের বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শকেরাও সহিংস হয়ে ওঠে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে স্টেডিয়ামের সব ভবনের জানালা ও ড্রেসিংরুমের কাঁচ ভেঙ্গে যায়। দুই দলের খেলোয়াড়রা নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইনাল ম্যাচটি কোন ঘোষণা ছাড়াই স্থগিত হয়ে যায়।
এদিকে স্টেডিয়ামে তাণ্ডব চালানোর পেছনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আগত দর্শকদের দায়ী করেছেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহবায়ক কমিটির সদস্য রিদুয়ান আলী। তিনি বলেন, ‘তাদের কারা নিয়ে এসেছে আমি জানি না। তবে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এসে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজিব জানান, ফাইনাল খেলার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।


