গাজায় ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিল ইসরায়েল ও হামাস। তাদের প্রথম দিনের আলোচনা ‘ইতিবাচকভাবে’ শেষ হয়েছে।
মিশরের কায়রোতে শুরু হওয়া এ আলোচনার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চুক্তির আশা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা, বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। কুয়েত, কাতার, মিশর, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারী সব পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে মঙ্গলবারও আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছে তারা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী শহর শারম আল শেখে বৈঠকে বসেন ইসরায়েল, হামাস ও মধ্যস্থতাকারী দেশের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠক ছিল ‘ইতিবাচক’ এবং সেখানে শান্তি চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলোতে কি কি বিষয় থাকবে সে বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়।
মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহিরা নিউজ জানিয়েছে, আলোচনার প্রথম দিনে বন্দি এবং জিম্মি বিনিময়, যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘চুক্তি হওয়ার একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু শর্তে (রেড লাইনস) আমরা কোনো ছাড় দিব না। তবে আমি মনে করি, আমরা অনেক ভালো করছি। হামাস কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মত হয়েছে।’
এ সময় হামাসকে আলোচনার টেবিলে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করায় আরব দেশ এবং তুরস্কের যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি জনগণ এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নিজের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফেরও প্রশংসা করেন।
স্টিভ উইটকফ এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে আছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তিনি একজন রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার হলেও ট্রাম্পের সরাসরি প্রতিনিধি হিসেবে তাকেও মার্কিন প্রতিনিধিদলের অংশ বিবেচনা করা হচ্ছে।
আলোচনায় হামাস প্রতিনিধিদলের মধ্যে অংশ নেন- হামাসের সিনিয়র নেতা খালিল আল-হাইয়া এবং জাহের জাবারিন। তারা গত মাসে কাতারের দোহায় ইসরায়েলি হামলা থেকে বেঁচে ফিরেছেন।

আলোচনা চলাকালে সোমবারও ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে আল জাজিরা। তাদের মধ্যে তিনজন মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারান।
আল জাজিরাকে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রাম্পের প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক’ সাড়া দেওয়ার পরও ইসরায়েল গাজায় বোমা বর্ষণ অব্যাহত রাখায় ‘বন্দিমুক্তি’ সংক্রান্ত আলোচনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ইসরায়েল-হামাস শান্তি আলোচনা নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি জিম্মি এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের দ্রুত বিনিময় নিশ্চিত করতে চাপ দিচ্ছেন। এই ধাপ সম্পন্ন হলে ‘যুদ্ধ অবসানের’ পরিকল্পনার অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নের জন্য পথ তৈরি হবে।
লেভিট বলেন, ‘হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারীদের প্রযুক্তি দলগুলো এই মুহূর্তে কাজ করছে। উভয় পক্ষের বন্দিদের তালিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।’
আল-কাহিরা নিউজে বলা হয়, মঙ্গলবার ইসরায়েলের সীমান্তেবর্তী এলাকায় হামাসের আক্রমণের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ দিনও উভয়পক্ষে শান্তি আলোচনা চলবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ওই হামলায় ইসরায়েলে এক হাজার ১৩৯ জনকে হত্যা এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করে হামাস।
তারপর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় কমপক্ষে ৬৭ হাজার ১৬০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৯ জন আহত হয়েছেন।


