মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজায় আটক ব্যক্তিরা শিগগিরই মুক্তি পাবেন। তিনি রোববার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজার জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে।’
বিবিসি জানায়, তার এ ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থানীয় সময় সোমবার কায়রোতে শুরু হবে।
ট্রাম্প জানান, তিনি শুনেছেন যে আলোচনা ‘খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে’ এবং তিনি আশাবাদী যে এটি সবার জন্য একটি ‘দারুণ চুক্তি’ হবে, বিশেষ করে ইসরায়েল, আরব বিশ্ব, মুসলিম বিশ্বের এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ইসরায়েলের জন্য দারুণ, এটি পুরো আরব ও মুসলিম বিশ্বের জন্যও চমৎকার ব্যাপার, আমরা এ নিয়ে খুব খুশি।’
হামাস কিছু শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজার শাসন প্রযুক্তিবিদদের হাতে তুলে দেওয়া এবং কয়েকজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া। তবে হামাস তার নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যত শাসনে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টি আলোচনা টেবিলেই তোলার পক্ষে।
হামাসের প্রধান আলোচক খালিল আল-হায়্যা কায়রোতে পৌঁছেছেন, এবং সেখানে আলোচনা শুরু হবে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি আলোচনায় অংশ নেবেন।
এদিকে, ইসরায়েলি বিমান হামলা চলতে থাকে, যদিও ট্রাম্প শুক্রবার ইসরায়েলকে ‘বোমা হামলা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইসরায়েলের সরকার দাবি করেছে, ‘গাজায় কিছু কিছু বোমাবর্ষণ বন্ধ হলেও কোনো যুদ্ধবিরতি এখনো হয়নি’। ইসরায়েলি সরকার জানায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, তারা ‘কিছু দিনের মধ্যে’ জিম্মিদের মুক্তির ঘোষণা করতে চান।
ইসরায়েলি আক্রমণের পর গাজার পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হামাসের পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৫ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসরায়েল গাজার আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও ট্যাংকের গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে, যাতে অনেক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘জিম্মিদের মুক্তি ঘটাতে হলে প্রথমে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, তা না হলে মুক্তি সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব জিম্মিদের মুক্তি চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি এবং ৪৮ জন জিম্মির মুক্তির প্রস্তাব রয়েছে, যাদের মধ্যে কেবল ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামাসের অবস্থান অনুযায়ী, শান্তি পরিকল্পনায় তাদের ‘লাল রেখা’ উল্লেখ না করলেও, তারা আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। কাতার, মিসর ও তুরস্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে হামাস তাদের আপত্তি সামাল দিতে এবং অস্ত্রের ভবিষ্যৎ, গাজার শাসন এবং অন্যান্য বিষয়গুলো আলোচনা টেবিলে নিয়ে আসতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প সিএনএন-এ জানান, ‘যদি হামাস গাজায় শাসন করতে চায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল গাজার একটি প্রাথমিক প্রত্যাহার সীমারেখায় সম্মত হয়েছে, তবে এই মানচিত্র অনুযায়ী প্রায় ৯ লাখ ফিলিস্তিনি ঘরে ফিরতে পারবেন না।
গত বছর ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে দক্ষিণ ইসরায়েলে এক হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, এর পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় হামলা চালাচ্ছে।


