মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতোই আপসহীন ত্যাগ করেছেন খালেদা জিয়া–এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ে মার্টিন লুথার কিং শত নির্যাতনের মুখেও আপস করেননি এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘদিন কারাবরণ করেও আদর্শ থেকে সরে যাননি, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়াও জীবনের কোনো পর্যায়ে কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেননি।
শনিবার চট্টগ্রামে খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার আবির্ভাব ও তার দীর্ঘ সংগ্রাম এক অনন্য ইতিহাস।
তিনি বলেন, একজন সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশের পর জীবনের তিন-চতুর্থাংশ সময় বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। অনেকের ধারণা তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি মাত্র ১০ থেকে ১১ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন, আর প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।
আমীর খসরু বলেন, রাজনীতিতে অনেকেই সময় ও প্রেক্ষাপট বদলালে সরে দাঁড়ান, কিন্তু খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নে এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি।
গণতন্ত্রকে ভবিষ্যতের পথচলার মশাল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার ত্যাগের মাধ্যমে আমাদের জন্য যে মূল্যবান গণতন্ত্রের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, সেই গণতন্ত্রের মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে রয়েছে এবং এটি বহনের দায়িত্ব এখন দেশের প্রতিটি নাগরিকের।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড রাজীব রঞ্জন, একেখান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দীন কাশেম, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো শাহনওয়াজ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নসরুল কাদির, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, তরুণ রাজনীতিবিদ তারেক আকবর খন্দকার, নাগরিক ঐক্যের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি স্বপন মজুমদার, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সাদিয়া আফরিন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জি নুরুল করিম এবং চমেকের অধ্যক্ষ জসীম উদ্দীন।


