আসন্ন জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০-কে সামনে রেখে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) শুভেচ্ছাদূত জয়া আহসান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার খুলনার দাকোপ পরিদর্শন করেছেন।
গত মঙ্গলবার এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব পরিদর্শন করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী কীভাবে অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকে থাকার লড়াই করছে, তা জানা।
ইউএনডিপি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের বাস্তবতা অনুধাবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সুরক্ষায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদার করার আহ্বান জানানোর লক্ষ্যে এ সফর আয়োজন করা হয়।
এ সময় তারা সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ, সুইডেন ও ডেনমার্কের সহায়তায় বাস্তবায়িত ইউএনডিপি ও ইউএনসিডিএফ’র যৌথ প্রকল্প ‘লজিক’ পরিদর্শন করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের, বিশেষ করে নারীদের, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রকল্পটি টেকসই জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে অবদান রাখছে।
খুলনার তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিদর্শনের সময় জয়া আহসান ও স্টেফান লিলার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং নারীদের নেতৃত্বে পানির সংকট মোকাবিলা, বিকল্প জীবিকা সৃষ্টি এবং সামাজিক সহনশীলতার নানা উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করেন।

সফর শেষে জয়া আহসান বলেন, ‘এখানে এসে আমি প্রত্যক্ষ করেছি, জলবায়ু পরিবর্তন এখানে কেবল একটি সংবাদ নয়; এটি মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা। তবে নিরাপদ পানির অভাব, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মানুষ নিজেদের নতুনভাবে গড়েছে, এটি আসল অনুপ্রেরণা।’
‘ইউএনডিপি ও সরকারের সহায়তায় মানুষ বারবার যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তা আমার কাছে এক অসাধারণ মানবিক গল্প’, যোগ করেন তিনি।
স্টেফান লিলার বলেন, ‘দাকোপে এসে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত মুখোমুখি হওয়া এক গভীর অভিজ্ঞতা। এটি ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, আজকের বাস্তব সংগ্রাম। তবে এখানকার নারীদের দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব সবচেয়ে বড় আশার জায়গা।’
‘লজিক প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছি। কপ-৩০ সম্মেলনে দেশের এই উদ্ভাবন ও অভিযোজনের গল্প বিশ্বকে শুনতে হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সফরটি টেকসই, ন্যায়সংগত ও জলবায়ু সহনশীল পৃথিবীর জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানায়।


