খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে গত চারদিনে ২২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ জনকে আটক করা হয়।
রোববার কেএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আটকদের মধ্যে আছেন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, পলাশ গ্রুপের সদস্য, চিৎড়ি বাবুর সহযোগী কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থ। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের অধিকাংশই মাদক বিক্রেতা। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, মাদক, অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই খুলনার বিভিন্ন গ্যাংয়ের সদস্য।
কেএমপি উত্তর ও দক্ষিণ এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পরিচালিত অভিযানের প্রথম দিন ৬২ জন, দ্বিতীয় দিন ৫৯ জন এবং তৃতীয় দিন ৬৩ জনকে আটক হয়।
কেএমপি কমিশনার মোহম্মাদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
অনেক সময় বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা খুলনায় এসে অপরাধ করে চলে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেগুলো প্রতিহত করার জন্য প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।’
আইনের ফাঁক দিয়ে অনেক সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বের হচ্ছে জানিয়ে তাদের ওপরও নজরদারির কথাও জানান কেএমপি কমিশনার।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে গোলাগুলি, চাঁদাবাজি, অপহরণের তথ্য আসে। খুলনা শহরটি এখন আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দমনে খুলনায় পুলিশের আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।’
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে যেমন কর্মসংস্থানের অভাব আছে, তেমনি রাজনীতির মধ্যে অপরাধনীতি আছে। সেগুলো দূর করা সময়সাপেক্ষ। তবে আপাতত যেটা দরকার, সেটা হচ্ছে শুধুমাত্র পুলিশি অভিযান।’যারা সন্ত্রাসীদের মদদদাতা, তাদের গ্রেপ্তারের ওপরও জোর দেন বাবুল।
এদিকে অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তাদের দাবি, যৌথবাহিনী কখন, কোথায়, কোন সময়ে অভিযান চালাবে তার আগাম তথ্য সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাওয়ায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে উৎসুক অনেকেই ফেসবুকে লাইভ করে কিংবা ছবি তুলে নিজের ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে দিচ্ছেন। এর ফলেও দুষ্কৃতকারীরা আগাম বার্তা পেয়ে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে কেএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) মো আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অভিযানের সময় তারাও আমাদের সবকিছুর ওপর দৃষ্টি রাখে। আমাদের অভিযান চলছে, তারা হয়ত একটু গা ঢাকা দিয়ে এদিক-ওদিক চলে যেতে পারে। এটা বিশেষ কোনো কিছু না।’
খুলনা মহানগর পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ২২ মাসে শুধুমাত্র নগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় ৮৮টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪টি হত্যায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত। এ প্রেক্ষাপটে থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। মহানগরীর আটটি থানায় সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকায় ১৮১ জন সন্ত্রাসী রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


