কুড়িলে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ভাবি গ্রেপ্তার

কুড়িলে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ভাবি গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর ঢাকার কুড়িল মৃধাবাড়ি এলাকার একটি বাসার পানির ট্যাংক থেকে আরিফা নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিশুটির ভাবি খাদিজা আক্তারকে (১৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার খাদিজা আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভাটারা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মওদুদ কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খাদিজা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ক্ষোভের জেরে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পানির ট্যাংকে ফেলে রাখে সে।

এর আগে বুধবার বিকালে বাড়ির নিচতলার একটি পানির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় শ্বাসরোধের দাগ এবং ঠোঁটে ফোলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহত আরিফা পরিবারের সঙ্গে ভাটারা থানার কুড়িল মৃধাবাড়ি এলাকার জহিরের বাড়িতে ভাড়া থাকত। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। তার বাবার নাম রাজিব। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্ডা উপজেলার সিদুলকুড়া গ্রামে।

আরও পড়ুন

এসআই মওদুদ কামাল জানান, ‘দিনমজুর রাজিব-হাবেজা দম্পতি তাদের দুই ছেলে, এক মেয়ে ও বড় ছেলের স্ত্রী খাদিজা আক্তারকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করতেন।’

খাদিজাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, আরিফার প্রতি ভাবি খাদিজা আক্তারের দীর্ঘদিনের বিরক্তি ও ক্ষোভ ছিল। আরিফার ভাই হাসান বাইরে থেকে বোনের জন্য কিছু আনলে তা সহ্য করতে পারতেন না খাদিজা। মঙ্গলবার রাতে হাসান একটি পুতুল ও ফুল এনে দিলে এ নিয়ে স্বামী হাসানের সঙ্গে খাদিজার ঝগড়া হয়। বুধবার সকালে পরিবারের অন্য সদস্যরা কাজে বেরিয়ে গেলে বাসায় একা ছিল আরিফা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খাদিজা ঘরের ভেতর শিশুটির গলা চেপে ধরে প্রায় ৩ থেকে ৪ মিনিট শ্বাসরোধ করে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে তাকে কোলে করে বাসার পাশের একটি পানির ট্যাংকে ফেলে রাখে।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর আরিফার মা কাজ থেকে বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দুপুর পর্যন্ত খুঁজে না পেয়ে বাসার পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে শিশুটিকে বাইরে যেতে দেখা না গেলে বাসার ভেতরেই সন্দেহ জোরালো হয়। পরে পানির ট্যাংকে খোঁজ করলে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে খাদিজা হত্যার কথা স্বীকার করলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে। পরে পুলিশের কাছেও সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

এসআই মওদুদ কামাল জানান, এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার একটি হত্যা মামলা করেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad